August 22, 2019 A- A A+

এডিস দমনে ‘জরিমানা’ দাওয়াই

এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ যাচ্ছে মানুষের। এ অবস্থায় এডিস নিধনে জরিমানার দিকে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ। বাড়ির মালিকের অবহেলার কারণে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ঢাকায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা বংশবিস্তার করছিল এরকম নয়টি বাড়ির মালিকদের এই জরিমানা করা হয় সম্প্রতি। বাসাবাড়িতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রের খোঁজে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয়াপল্টন, সেগুনবাগিচা, তোপখানা, ধানমন্ডি ও যাত্রাবাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে এমন নয়টি বাড়ি পাওয়া গেছে যেখানে মশা বংশ বিস্তার করছিল। এ কারণ আদালত ওই বাড়িগুলোর মালিকদের জরিমানা করেছে। এর মধ্যে বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি যেমন রয়েছে তেমনি আছে নির্মাণাধীন কিছু বাড়ি। এডিস মশার কামড়ে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণ গেছে অনেকের। এ অবস্থায় এডিশ দমনে সচেতনতার বিকল্প নেই। দুঃখজনক হচ্ছে কর্তৃপক্ষের অবহেলা তো রয়েছেই এছাড়া সাধারণ মানুষেরও রয়েছে গাফিলতি। নিজ বাসাবাড়িতে এডিস মশার অভয়ারণ্য রেখে কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এজন্য বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই। কোনো অবস্থাতেই যেন এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। একই ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা বলছেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়রও। শুধু তাই নয় প্রান্তিক পর্যায়েও মশক নিধনে চলবে এ ধরনের অভিযান। নেত্রকোণা পৌরসভার পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত টায়ারে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোণা সদর পৌরসভার সহযোগিতায় নেত্রকোণা-ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে পৗরসভার পারলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার কামালের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনাকালে স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ মোতাবেক বাড়ির মালিক রোকন উদ্দিনকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পৌরসভার পারলা এলাকার রুকনউদ্দিনের বাড়ির সামনে পতিত জমিতে রাখা পরিত্যক্ত টায়ারে জমানো পানি দেখতে পাওয়া যায়। পরে সিভিল সার্জন অফিসের কীটতত্ত্ববিদ মঞ্জুরুল হক কর্তৃক এডিস মশার লার্ভা উদঘাটিত হয়। এ সময় তাকে অপরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশার লার্ভাসহ পরিত্যক্ত টায়ার রাখার অপরাধে জরিমানা করা হয়। এছাড়া পরিত্যক্ত টায়ারগুলো পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতায় অপসারণ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে সবার আঙিনা পরিষ্কার রাখাসহ পানি জমতে পারে এমন খোলাপাত্র সরিয়ে ফেলার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তা অব্যাহত রাখা হবে। এডিস মশার কামড়ে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণ গেছে অনেকের। এ অবস্থায় এডিশ দমনে সচেতনতার বিকল্প নেই। দুঃখজনক হচ্ছে কর্তৃপক্ষের অবহেলা তো রয়েছেই এছাড়া সাধারণ মানুষেরও রয়েছে গাফিলতি। নিজ বাসাবাড়িতে এডিস মশার অভয়ারণ্য রেখে কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এজন্য বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই। কোনো অবস্থাতেই যেন এডিস মশা বংশ বিস্তার করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail