May 10, 2018 A- A A+

থানায় গিয়ে পুলিশের হাসি মুখটা দেখতে চায় জনগণ : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, জনগণকে সাথে নিয়ে দেশে জঙ্গিবাদ যেভাবে কঠোর হস্তে প্রতিরোধ করা হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে মাদক নির্মূল করা হবে। একটা সময় জঙ্গিবাদ দেশে জেঁকে বসেছিলো। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিকাশ ঘটেছিল। দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিরোধ করেছি এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমাদের প্রচেষ্টা সর্বদা রয়েছে। মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক দিন দিন আমাদের সমাজকে তথা আগামী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আগামী প্রজন্ম প্রজননে অক্ষম হয়ে পরছে। তাই যেমনভাবে জঙ্গি নির্মূল করা হয়েছে, তেমনি আমরা মাদক প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, জনগনের সম্পৃক্ততা ছাড়া জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে র‌্যাংক পরিয়েছেন তখন তিনি আমাকে মাদকের বিষয়ে বলেছেন। মাদক নিমুর্ল করা এখন আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সেই ভাবেই কাজ করছি। সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে মাদক নির্মূলের কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। এটা পুলিশিং একক সমস্যা নয়, এটা সকলের সমস্যা। ৯ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল পুলিশ লাইন্সে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের আয়োজনে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের উৎপাদন এই দেশে হয়না। এই দেশে এসব আসতে বিভিন্নপর্যায় পার হতে হয়। সীমান্ত থেকে এই মাদক প্রবেশ করছে, পরিবহন হচ্ছে এবং বিক্রিও হচ্ছে। এটা পরিপূর্নভাবে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে নির্মূল করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের বিপথগামী যুবকদের মধ্যে যতদিন মাদকের ডিমান্ড থাকবে ততদিন মাদক সাপ¬াইয়েরও চেষ্টা করা হবে। যদি এই মাদকাসক্ত যুবকদের পুনর্নিবাসন কেন্দ্রে নিয়ে সুস্থ্য করা যায় তাহলে মাদকের ডিমান্ড যেমন কমবে, তেমনি সাপ¬াইও কমে যাবে। ধীরে ধীরে মাদক নির্মূল হবে বাংলাদেশ থেকে। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, এই মাদকই আমাদের পিছনে টেনে ধরেছে। দেশের অনেক যুবক এই ভয়াবহ মাদকের কবলে রয়েছে। মাদকাসক্ত যুবকের জন্য সমাজ ও পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে। তাই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে। জঙ্গীবাদের বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে আমরা সারা বিশ্বে রোল মডেল। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। পরিবারের খেয়াল রাখা উচিৎ তার ছেলে কি করছে, কার সাথে মিশছে। এটা পুলিশের নজরে রাখা সম্ভব নয়। আপনাদের ছেলে যদি বিপথগামী হয় তাহলে আমাদের জানান। আমরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব। শিক্ষকদের উচিৎ শিক্ষার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করা। এই শিক্ষাটা শিক্ষকদের দিতেই হবে নতুবা শিক্ষার্থীরা বিপথগামী হতে পারে। যার যার অবস্থান থেকে আমাদের সহায়তা করতে হবে। জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, একটি থানা সেবার মূল স্থান। কোনো থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান। আমরা ব্যবস্থা নেব। থানায় গিয়ে পুলিশের হাসি মুখটা দেখতে চায় জনগণ। জনগণের সেবা করা আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব। এতোবড় বাহিনীর মধ্যে কয়েকজন পুলিশ অপরাধ করলে তার দায় সে ব্যক্তিগত ভাবে নেবে। এর দায়িত্ব পুলিশ বিভাগ নেবেনা। অপরাধকারী পুলিশ সদস্যর শাস্তিও নিশ্চিত করব আমরা। তিনি বলেন, সম্প্রতি নানা সহিংসতা ও জঙ্গিবাদের কারণে আমাদের ১৭ সহকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই হাজার পুলিশ সদস্য। অনেকে এখন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এরপরও কিন্তু আমরা হারিনি। আমরা আগুন সন্ত্রাস থেকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আরও কঠোর হচ্ছি। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম’র সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পীকার এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, আওয়ামীলীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুজ্জামান, মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ মাহাফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান প্রমুখ। সমাবেশে বরিশালের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে রাতে পুলিশ লাইন্সের মাঠে রংধনু গ্র“প নিবেদিত সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী কনসার্ট আলোর পথে সংগীত পরিবেশন করেন সাবিনা ইয়াসমীন, নকুল কুমার বিশ্বাস, কনা, কাজী শুভ এবং ব্যান্ড দল ডিফারেন্ট টাচ ও নাদিয়া, সোহেল, ডিএ তায়েবসহ অন্যান্য শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে সফলতা অর্জনকারী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফিরোজ কবির জানান, দুই দিনের সফরে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বৃহস্পতিবার বরিশালে এসেছেন। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় সার্কিট হাউজে রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বরিশালের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করবেন আইজিপি। পরে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের ১২ তলা বিশিষ্ট ব্যারাক এবং ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক অস্ত্রাগার ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধণ। রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বরিশালের বিভিন্ন ইউনিটের সব পদবীর অফিসার ও ফোর্সের সাথে বিশেষ কল্যাণ সভায় যোগ দেবেন। বিকেল তিনটায় আইজিপি জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সমাবেশে অংশগ্রহণ ও পুলিশের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail