May 9, 2018 A- A A+

ইরানের পার্লামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় উদ্বেগ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের একদিনের মাথায় ৯ মে বুধবার ইরানের পার্লামেন্টে মার্কিনবিরোধী স্লোগান দেন দেশটির এমপিরা। ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেন তারা। ইরানের রাজনীতিতে অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে জঘন্য ভুল বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং স্পিকার আলী লারিজানি বলেছেন, তাদের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই চুক্তি টিকিয়ে রাখতে ইউরোপীয় নেতারা তেহরানের সঙ্গে কাজ করবেন। একইসঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান এখন তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইরানের স্পিকার আলী লারিজানি।বুধবার শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের এক সমাবেশে এ বিষয়ে কথা বলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য অবমাননাকর। তার বক্তব্যে ১০টির বেশি মিথ্যা ছিল। তিনি ইরানের সরকার ও জাতিকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি জঘন্য ভুল করছেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা পরমাণু কর্মসূচি নয়। ইরান পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন শত্রুতার ইতি ঘটেনি। তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু নিয়ে কথা বলছে। তাদের এ সংক্রান্ত দাবি মেনে নেওয়া হলে তারা অন্য আরেকটি ইস্যু সামনে আনবে। এদিকে পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওবামার অধীনেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ‘মারাত্মক ভুল’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ওবামার আশঙ্কা, চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কের অবনতি হবে। এর ফলে দুনিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার পূর্বসূরি ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জয়েন্ট কমপ্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চুক্তি কার্যকর রাখতে প্রতি প্রতি তিন মাস পরপর দেশটির প্রেসিডেন্টের সম্মতি দরকার। আগামী ১২ মে পরবর্তী তিন মাসের জন্য এই চুক্তিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর না করলে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সমঝোতা ভেস্তে যাবে। আর ট্রাম্প যে ১২ মে নতুন করে আর এতে স্বাক্ষর করছেন না; তা নিয়ে আর সন্দেহের অবকাশ নেই। এ বিষয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’কে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একটি দেশের প্রশাসন পরিবর্তন হলে তার নীতিতে পরিবর্তন আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী আমেরিকার গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বারাক ওবামা বলেন, আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক, বিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর ইরানের পরমাণু সমঝোতায় সই করেছিল ওয়াশিংটন। সেই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অর্থ হবে ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ মিত্রদের হাতছাড়া করা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ট্রাম্প চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে উত্তর কোরিয়াকে তার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার সম্ভাব্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল অবস্থানে থাকবে। সূত্র: টাইম, ইউএসএ টুডে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail