May 9, 2018 A- A A+

উজিরপুরে যুবক খুন : নদী থেকে লাশ উদ্ধার

উজিরপুর প্রতিনিধি : বরিশালের উজিরপুরে দিনে দুপুরে এক যুবককে হত্যা করে তার লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে দূবৃত্তরা। ৯ মে বুধবার উপজেলার শিকারপুর বন্দরের অদুরে পূর্ব জয়শ্রী পেশকার বাড়ির এলাকায় সন্ধ্যা নদীর তীরে শিকারপুর বন্দরের ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির(৩২)র ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ। লাশের নাক মুখ রক্তাক্ত ও জিহ্বা বের হওয়া ছিল। পুলিশ ও পরিবারের ধারনা হুমায়ুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উজিরপুর থানা পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য রাব্বি নামক এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছেন। এদিকে হুমায়ুনের ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি খলিফা বাড়ির দরজার সামনে পরেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবারের সদস্য ও পুলিশ জানান, উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের মু-পাশা গ্রামের মৃত আবুল কাসেম মুন্সীর ছোট পুত্র মো. হুমায়ুন কবির ও তার বড় ভাই শিকারপুর বন্দরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হেমায়েত মুন্সী যৌথভাবে শিকারপুর বন্দরের চাউলের আড়ৎ, মক্কা ব্রিকস ফিল্ডসহ সকল ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হুমায়ুন মক্কা ব্রিকস্ দেখাশুনার দ্বায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। সে অবিবাহিত ছিল। হুমায়ুন কবিরের খালা করিমন বেগম(৬০) জানান, বুধবার সকাল ৯টায় শিকারপুর শের ই বাংলা কলেজের সামনে হুমায়ুনের সঙ্গে তার দেখা হয় এবং কুশল বিনিময় হয়। তখনও হুমায়ুন স্বাভাবিক ছিল পরবর্তিতে কয়েক ঘন্টার মধ্যে কিভাবে এ ঘটনা ঘটল। কারা ই বা তাকে হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিল। ওই গ্রামের আঃ জলিল (৬০) জানান, সকাল ১১টার দিকে হুমায়ুন কবিরকে তিনি বাটা সংলগ্ন নদীর তীরে দাড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে দেখেছেন। স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে সন্ধ্যা নদীর তীরে শিকারপুর বন্দরের উত্তর পাশে পেশকার বাড়ির সামনে নদীতে একদল শিশু দূরান্তপনা ও ডুবাডুবি করছিল। হঠাৎ তারা নদীতে একটি ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে ভয়ে ডাক চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তাদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্তলে পৌছে দুপুর দেড়টার দিকে ভাসমান লাশটি উদ্ধার করে। স্থানীয় সহিদুল ইসলাম(৩০) ও কামাল হোসেন(৩২) জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে তীরে উঠানো মাত্র তারা ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবিরের লাশ সনাক্ত করে স্বজনদের খবর দেন। নিহত হুমায়ুনের পরনে থাকা প্যান্ট খুলে নেয়া হয়। লাশ উদ্ধারের সময় সে আন্ডারওয়্যার পরা ছিল। গায়ে থাকা গেঞ্চিটি তার কোমরে বাঁধা ছিল। এতেই অনেকের ধারনা হুমায়ুনকে হত্যা করে লাশটি নদীতে ফেলে দেয়া হয়। একাধিক সূত্র জানান, গত ৪/৫ মাস যাবত বড় ভাই মো. হেমায়েত মুন্সীর সঙ্গে হুমায়ুনের ব্যবসায়িক ও জমাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল । বিরোধের পর থেকে হুমায়ুন স্বপন মুন্সী নামক এক ব্যক্তির আলাদা বাসায় থাকতেন। নিহতের বড় ভাই ও শিকারপুর বন্দরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ হেমায়েত মুন্সী বলেন, ছোট ভাই হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আমার খুবই সু-সম্পর্ক ছিল। ছোট বেলা থেকে ওকে আমিই ওকে আদর যতœ করে বড় করেছি। তার কোন শত্রু ছিল না। আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রে আরও জানাযায়, হুমায়ুন কবির শিকারপুরের একজন ভাল ক্রিকেটার হিসাবে এলাকায় বেশ পরিচিত ছিল। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরাতহাল তৈরী করেছে এবং ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের পরনে শুধু আন্ডার পেণ্ট ছিল এবং নাক, মুখ ও চোখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল, গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া স্বাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail