May 9, 2018 A- A A+

আ.স.ম ফিরোজ’র নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জে মাঠ সরগরমে জুয়েল

বাউফল প্রতিনিধি : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগে দুই নেতার মেরুকরনে বিভক্ত । জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রবীন রাজনীতিবিদ। অপরজন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা,পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফলের পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল তরুন রাজনীতিবিদ । দু’জন একই দলের হলেও বাউফল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রবীন ও তরুন দুই ধারায় বিভক্ত । দুজনের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এ কারণে দুজনের কর্মী-সমর্থকরা প্রায়ই সংঘাত-সহিংসতায় জড়াচ্ছে। গত তিন বছরে দুই পক্ষে শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট, মারামারিসহ দুই নেতার চার কর্মী এ পর্যন্ত খুন হয়েছে। মামলা-পাল্টা মামলায় আসামির সংখ্যা হাজার পার করেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে- ১৯৭৯ থেকে একচেটিয়া কিংবা কখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দাপটের সঙ্গে রাজনীতির মাঠ সরগরম করে রাখা বর্তমান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে মেয়র জুয়েল নেতৃত্বে দিচ্ছেন। এতে আ.স.ম ফিরোজ এর দীর্ঘ আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি খর্ব হতে চলছে। এরকম প্রশ্ন মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকের মাঝে নানা আলোচনায় আলোচিত হচ্ছে। ২০১২ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত বাউফল পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন চান তরুন রাজনীতিবিদ জুয়েল। কিন্তু ফিরোজ তাঁর পরিবর্তে সমর্থন দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া পান্নুকে। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জুয়েল। নির্বাচনের পর এমপি’র ঘনিষ্ঠ হতে জুয়েল একাধিকবার দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু ফিরোজ এমপি তাঁকে সে সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিরোজ দলীয় সমর্থনে পাঁচবার এবং বিদ্রোহী হয়ে একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এ কারণে একক আধিপত্য বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে সংসদ নির্বাচনে দু-একজন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ করলেও তারা ফিরোজের দাপটে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন। ফিরোজের সেই আধিপত্যে ফাটল ধরিয়েছেন জুয়েল পৌর মেয়র হয়ে। শুরু হয় প্রবীন ও তরুন নেতৃত্ব ও কতৃত্বের ভাগাভাগি । গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বাউফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সুধি সমাবেশে চিফ হুইপ আসম ফিরোজ (এমপি) ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ায় দু গ্রুপের অভ্যন্তরীন কোন্দল আরও চরম আকার ধারন করেছে। কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে এ কোন্দল নিরসন না হলে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতৃবৃন্দ। যদিও আসম ফিরোজ এ আসন থেকে ছয় বার নির্বাচিত এমপি। এ যাবতকালে তার সমকক্ষ কোন প্রাথী না থাকায় এ আসন থেকে তিনিই নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ইতিমধ্যে তরুন প্রজন্মের অনেক নতুন নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রিয় কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক,সামচুল হক রেজা খন্দকার, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জোবায়দুল হক রাসেল, চীফ হুইপ আসম ফিরোজ এমপি’র ছেলে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজ কল্যান সম্পাদক রায়হান সাকিব এবং কেন্দ্রিয় স্বেচ্ছা সেবক লীগ নেতা, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। এবং ধীরে ধীরে সাংগঠনিক ভাবে তার পাল্লাকে ভারী করতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, আসম ফিরোজ বার বার এ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় দলের প্রবীন নেতা কর্মীদের অবমূল্যায়ন করায় ওই সমস্ত নেতা কর্মীরা নতুন নেতৃত্বের সন্ধান পেয়ে পৌর মেয়র জুয়েলের পাল্লা ভারী করতে থাকে। গত পৌর নির্বাচন থেকেই চিফ হুইপ আসম ফিরোজ ও মেয়র জুয়েল গ্রুপের মধ্যে বাউফল আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। ইতিমধ্যে চিফ হুইপের অবমূল্যায়নের কারনে উপজেলা পরিষদের পরাপর দু বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান মুন্সি জুয়েলের নেতৃত্বকে সমর্থন দিয়ে তার পাল্লা ভারী করছেন। এ কারনে তিনি একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। যদিও চিফ হুইপ আসম ফিরোজ বাউফল আওয়ামীলীগে কোন কোন্দল নেই বলে দাবি করেন। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উল্লেখিত সকল নেতাই মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে মেয়র জুয়েলই সাংগঠনিক ভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র দাবী করেন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail