May 7, 2018 A- A A+

দুর্নীতির অভিযোগে আ’লীগ নেতা নিজামসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এসএসসির ফলাফল বিপর্যয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জাগদীশ সারস্বত বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক কাউন্সিলর নিজামুল ইসলাম নিজামসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে জাগদীশ সারস্বত বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে দেন। মামলায় অন্যান্য বিবাদীরা হলেন, জাগদীশ সারস্বত বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদক, দাতা সদস্য বিজয় কৃষ্ণ দে, অভিভাবক সদস্য কৃষ্ণ চন্দ্র শীল, ধীরেন কর্মকার, এস.আলাল মিয়া, রতন দাস গুপ্ত, কাওসার হোসেন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কলেজ পরির্দশকসহ ১৫ জন। মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষে। গত বছর অক্টোবর মাসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও ভবিষ্যৎ তহবিলের ২ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৪ টাকার স্থলে ২ লাখ ৫ হাজার ২৯০ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক অধিকহারে ২০ হাজার ৩শ টাকা গ্রহণ করে। এ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রধান শিক্ষক গভর্নিং বডির কোন সিধান্ত ছাড়াই লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের অদক্ষতার কারণে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় ৩৭ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। গত ৬ মে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও ভবিষ্যৎ তহবিলের প্রতিষ্ঠানের টাকা প্রদাণের জন্য বললে টাকা প্রদানের কথা অস্বীকার করে। এ ঘটনায় সোমবার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে গত ৬ মে রবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় নগরীর জগদ্বীশ স্বারস্বত বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকের কক্ষ তালাবদ্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিক্ষোভ শুরু হলে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সালমা কবির জানান, বেশ উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষার ফলাফল জানতে শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকরাও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আসেন। বেলা দুইটার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কক্ষের পাশে দেয়ালে ফলাফল টানিয়ে দেয়া হলে বেশ কিছু শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙ্গে পরে। যারমধ্যে অকৃতকার্য ও আশানুরুপ ফলাফল করতে না পারা শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। ফলাফল বিপর্যয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকরাও ক্ষুব্দ হয়ে প্রধানশিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তাকে (প্রধান শিক্ষক) অবরুদ্ধ করে রাখেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগ মুহুর্তে নিয়মিত ক্লাশ হয়নি বিদ্যালয়ে। পাশাপাশি প্রধানশিক্ষক কোচিং ক্লাশের নামে ১৫ শত টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করেছেন। যার বিনিময়ে কলেজ ছাত্রদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হয়েছে। তারা সৃজনশীলের বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের কিছুই বোঝাতে পারেনি। প্রধান শিক্ষক শাহ আলম তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ফলাফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্দ হয়েছেন। তারা কক্ষে তালা দিলেও তিনি ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। ফলাফল খারাপ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মাত্র চার মাসের মতো হয়েছে আমি যোগদান করেছি। যোগদানের পরেই দেখতে পেয়েছি এবারে তেমন কোন শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো ছিলোনা। সে হিসেব করেই পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়েছে। তারপরেও যে ফলাফল হয়েছে তা সন্তোষজনক। অপরদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ, এমদাদুল্লাহ সহ অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, ১৫ শত টাকার বিনিময়ে যে কোচিং করানো হয়েছে, তা বাহিরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের এনে করানো হয়েছে। কারন প্রধানশিক্ষকের হিসেব অনুযায়ী আমরা অজ্ঞ। তাই এ বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারছেন না। উল্লেখ্য, গত বছর এ বিদ্যালয় থেকে দুইশ’ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৮ জনে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশাপাশি অকৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১৮ জন। সেখানে এবছর ১৮৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ৪৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্জ হয়েছে আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail