May 7, 2018 A- A A+

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

রমজানকে ঘিরে মুনাফাবাজির ফাঁদ পাতছে অসৎ ব্যবসায়ীরা। দেশে ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও তারা এ পবিত্র মাসে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। পিয়াজ ওঠার ভর মৌসুমেও হঠাৎ করে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে গড়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আমদানি করা পিয়াজেরও দাম বেড়েছে কেজি প্রতি অন্তত পাঁচ টাকা। সিয়াম সাধনার মাহে রমজান মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেয়। কিন্তু অসৎ ব্যবসায়ীরা এ মাসকে বেছে নেয় বাড়তি মুনাফা অর্জনের মৌসুম হিসেবে। রেকর্ড পরিমাণ পিয়াজ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি অব্যাহত থাকার পরও ইফতারিতে ব্যবহৃত এ পণ্যের দাম বৃদ্ধি দুর্ভাগ্যজনক। চলতি বছর চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলা, খেজুর ইত্যাদি পণ্য আমদনি করা হয়েছে। নির্বাচনের বছরে রোজাদাররা যাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারপরও রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। কারণ গত অর্ধশতকের ঐতিহ্য হলো রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। রমজান মাস শুরু হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকে তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সরকারি হিসাবের পাশাপাশি ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, ছোলা, পিয়াজ ও খেজুর আমদানিকারকরাও বলছেন, এসব পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি পর্যাপ্ত রয়েছে। রমজান উপলক্ষে এসব পণ্যের দাম বাড়ার কোনো কারণই নেই। তবে এরই মধ্যে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দায়ী করছে পাইকারি বিক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ার সুযোগে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেক ভোক্তাও আগেভাগেই বেশি করে পণ্য কিনে রাখতে উঠেপড়ে লাগে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের ওপর কড়া নজরদারির পাশাপাশি ক্রেতাদেরও সংযমী হতে হবে। বাড়তি পণ্য কিনে বাজারে সংকট সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধেরও উদ্যোগ নেওয়া দরকার। টাউট রাজনৈতিক কর্মী, মাস্তান, পরিবহন ইউনিয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চাঁদাবাজি থেকে দূরে রাখার বিষয়টিও জরুরি।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail