May 7, 2018 A- A A+

শাহজালালে ৩৬ বছরের রাডার দিয়ে এখনও চলছে আকাশ পথ নিয়ন্ত্রণ

৩৬ বছরের ত্রুটিপূর্ণ পুরনো রাডার এবং ম্যানুয়াল এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) দিয়ে চলছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন, অবতরণ ও আকাশ পথের নিয়ন্ত্রণ কাজ। কয়েক দফায় সংস্কারের পরও ফেরেনি আগের সক্ষমতা। বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা ঝুঁকি এড়াতে দ্রুতই নতুন রাডার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  গেলো ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর নড়েচড়ে বসেছে বিশ্বের এভিয়েশন সেক্টর। আলোচনায় এসেছে বিমানবন্দরটির অব্যবস্থাপনা, নিরাপদে উড়োজাহাজ অবতরণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত নানা সীমাবদ্ধতা। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ পরিচালন ব্যবস্থা কতটা আধুনিক। প্রশ্ন উঠছে ৩৬ বছরের পুরনো রাডার দিয়ে আকাশ পথের নিয়ন্ত্রণ কাজ কতটা নিরাপদ তা নিয়েও। ১৯৮৪ সালে ফরাসি সরকারের অনুদানে প্রাইমারি রাডার এবং ১০ বছরের আয়ুষ্কাল সম্পন্ন সেকেন্ডারি রাডারটি স্থাপন করা হয় ১৯৮৬ সালে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডারের সমন্বয়ে গঠিত এই রাডারটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গেলো কয়েক বছরে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বেশ কয়েকবার সেটি সংস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইকবাল হোসেন বলেন, “এই রাডারের কার্যক্ষমতা অনেক কমে গেছে এবং এটা অনেকবার রিপিয়ার করা হয়েছে।”  দুর্ঘটনা এড়াতে কিংবা আকাশ পথের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুতই নতুন রাডার প্রতিস্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক এই চেয়ারম্যান। ২০০৫ সালে আধুনিক রাডার কেনার বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি প্রকল্প গ্রহণ করলেও নানা জটিলতায় আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।  বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক উয়ং কমান্ডার চৌধুরী জিয়াউল কবির বলেন, আমাদের যেই রাডারটি আছে সেটি আপডেট করা হয়েছে, এটি এখন ২৪ ঘণ্টা চলে। শুধু মাত্র রাডার না তার সঙ্গে আরও কয়েকটি ইকুয়েপমেন্টের সমন্বয়ে একটি পরিপূর্ণ এটিএম সিস্টেম চলছে। সরকারি টাকায় এটি হবে, আমার অনেকখানি এর কাজ গুছিয়ে নিয়ে আসছি।           দেশে যখন সড়ক, রেল কিংবা নৌপথে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে তখন দেশের আকাশ পথের তেমন কোনো উন্নয়ন নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে সিভিল এভিয়েশনকে একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সেবাদাতার ভূমিকা রাখায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতও করা যাচ্ছে না। ‘আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা’- আইকাও, অনেকদিন ধরে প্রতিষ্ঠান দুটিকে আলাদা করার তাগিদ দিচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এগুচ্ছে ধীরগতিতে। এজন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।  দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা থেকে শুরু করে সব ধরণের সেবাদান ও আইন প্রয়োগের কাজটি করে আসছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অথচ, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এভিয়েশন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কেবল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও আইন প্রয়োগ করে থাকে। যেখানে বাংলাদেশে সংস্থাটি নিয়ন্ত্রকের পাশাপাশি সেবাও দিচ্ছে। এসব কারণে সেবার মান নিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অথচ ১৯৮৬ সালের আগে দুই ধরনের কাজের জন্য বাংলাদেশেও আলাদা দুটি সংস্থা ছিল। ৩৩ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর, ‘আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা’- আইকাও’র সুপারিশে প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail